তাওহীদ-শির্ক ও তিন তাসবীহ’র হাকীকত
প্রকাশনী: কামিয়াব প্রকাশন
পৃষ্ঠা: 16
বাঁধাই: পেপার ব্যাক
সম্পূর্ণ বিবরণ →রমযান মাসে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান। হয়। ‘তাওহীদ’ সম্পর্কে কয়েক রমযানে আমি বিজ্ঞ আলেমগণের মুখে আলোচনা শুনেছি। কুরআন মাজীদের অগণিত উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁরা তাওহীদ সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা করেছেন। তাঁদের আলোচনায় শির্ক সম্বন্ধে কিছুই না বলায় আমি বিস্মিত হই। শির্কের উল্লেখ ছাড়া তাওহীদের ব্যাখ্যা কিছুতেই পূর্ণ হতে পারে না। তাওহীদ সম্পর্কে আমি বেশ কয়েকটি বই ও প্রবন্ধ পড়েছি। তাওহীদ ফিরুবুবিয়্যাহ, তাওহীদ ফিল উবৃদিয়্যাহ, তাওহীদ ফিল উলুহিয়্যাহ ইত্যাদির বিশ্লেষণ পড়ে মনে হয়েছে, সাধারণ পাঠক-পাঠিকার নিকট তাওহীদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আরো সহজবোধ্য হওয়া প্রয়োজন। মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী (র) ‘তাফহীমুল কুরআন’ নামক তাফসীরে ‘শির্ক’-কে চমৎকার সহজবোধ্যভাবে পেশ করেছেন। গোটা কুরআনে অগণিত স্থানে শির্কের কথা আছে। মাওলানার তাফসীরের সব জায়গায়ই এ বিষয়ে টীকাও আছে; কিন্তু একটি টীকায় তিনি শির্কের পূর্ণ পরিচয় তুলে ধরেছেন। সূরা আন‘আমের ১২৮ নং টীকায় যে ব্যাখ্যা পেয়েছি, তা একটু বিস্তারিতভাবে এ বইয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি, তাওহীদ ও শির্ক সম্পর্কে স্বল্পশিক্ষিত লোকও এতে সহজবোধ্য ধারণা পাবেন। তাওহীদ ও শির্ক কোনো জটিল বিষয় নয়। ঈমানের মূলই হলো তাওহীদ। আর শির্ক তাওহীদেরই সম্পূর্ণ বিপরীত। শির্ক সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেলে তাওহীদ সম্বন্ধে কোনো অস্পষ্টতা থাকে না। নামাযের পর তিন তাসবীহ পড়ার যে শিক্ষা রাসূল (স) দিয়েছেন তা বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করা হয়েছে, তাওহীদের ধারণাকে মন-মগজে মযবুত করাই এর আসল উদ্দেশ্য। তাই তিন তাসবীহর হাকীকতও তাওহীদ ও শির্কের সাথে শামিল করা হলো। উল্লেখ্য, তিন তাসবীহ’র হাকীকত অংশটি ১৯৯২ সালে জেলখানায় রচিত ও অক্টোবরে মাসিক পৃথিবীতে প্রকাশিত। পাঠক-পাঠিকাদের জন্য সহজবোধ্য করার উদ্দেশে মীর লুৎফুল কবীর সাদী যথেষ্ট সময় ব্যয় করে বইটির ভাষায় বেশ কিছু সংযোজন করেছেন। এ জন্য তার প্রতি আন্তরিক শুকরিয়া জানাই।