মযবুত ঈমান, সহীহ ইলম ও নেক আমল
প্রকাশনী: কামিয়াব প্রকাশন
পৃষ্ঠা: 48
বাঁধাই: পেপার ব্যাক
সম্পূর্ণ বিবরণ →আল্লাহর দীনকে বাস্তবে কায়েম করে সমাজের সর্বস্তরে ইনসাফ চালু করার জন্যই রাসূলগণের উপর কিতাব ও মীযান নাযিল করা হয়েছে বলে সূরা হাদীদের ২৫ নং আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে। আর এ উদ্দেশ্যেই রাষ্ট্রক্ষমতাকে ব্যবহার করতে হবে বলে ঐ আয়াতে ইঙ্গিতও রয়েছে। আল্লাহর দেওয়া বিধান শুধু তিলাওয়াত করলেই দীন আপনা-আপনি কায়েম হয়ে যাবে না। তাই দীনকে বিজয়ী করার দায়িত্ব পালনের যোগ্য একদল মানুষকে গড়ে তুলবার জন্য রাসূলগণ চেষ্টা করেছেন। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স) ১৩ বছর সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করে একদল লোক তৈরি করেন। তৈরি করা এ লোকদের নিয়েই রাসূল (স) মদীনায় ইসলামী সরকার গঠন করেন এবং ১০ বছরের মধ্যে গোটা আরবে আল্লাহর দীন বিজয়ী হয়। ঐ রাষ্ট্রটি মানবজাতির ইতিহাসে চিরকালের জন্য একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ নমুনা হিসেবে স্বীকৃত। যারা নিজেদেরকে মুসলিম বলে দাবি করে, তাদের প্রধান কর্তব্যই হলো ঐ পদ্ধতি অবলম্বন করে নিজ নিজ দেশে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র কায়েমের জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো। এ মহান উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য প্রথম কাজই হলো একদল লোক তৈরি করা। লোক তৈরি করা বলতে কী বোঝায়? মানুষের মন, মগজ ও চরিত্র গড়াই হলো লোক তৈরির আসল কাজ। এ তিন দিক দিয়েই মানুষকে গড়ে তুলতে হয়। মনের সাথে ঈমান বা বিশ্বাসের সম্পর্ক। মগজের সাথে ইল্ম বা জ্ঞানের সম্পর্ক। আর চরিত্র মানে আমল বা কাজ। ভালো আমলে ভালো চরিত্র সৃষ্টি হয়, মন্দ আমলে মন্দ চরিত্র। তাই মন-মগজ-চরিত্র বললে ইসলামী পরিভাষায় ঈমান-ইল্ম-আমলই বোঝায়। বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের সাথে যারা সক্রিয়ভাবে জড়িত তাদের মধ্যে বিশেষ করে ইসলামী ছাত্র শিবিরের বহু শিক্ষা শিবিরে এসব বিষয়ে আমি ২০০১ সাল থেকে ব্যাপকভাবে আলোচনা করেছি। এসব আলোচনার মাধ্যমে ঈমান, ইল্ম ও আমল সম্পর্কে আমার মনে সুস্পষ্ট ধারণা গড়ে উঠেছে। এ তিনটি বিষয়ের নাম রেখেছি ‘মযবুত ঈমান', ‘সহীহ ইল্ম' ও ‘নেক আমল'। ইতঃপূর্বে এ তিনটি বিষয় দু'টি পুস্তিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। বর্তমানে ব্যাপক চাহিদাপূরণ ও সহজলভ্য করার লক্ষে বিষয়গুলো একই পুস্তিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। ইসলামী আন্দোলনে সর্বস্তরের কর্মীদের মন-মগজ-চরিত্র গড়ে তুলতে এ পুস্তিকা সহায়ক হোকÑ এ কামনাই করছি। আল্লাহ তাআলা আমার এ আশা পূরণ করুন। আমীন।