শিক্ষাব্যবস্থার ইসলামী রূপরেখা
প্রকাশনী: কামিয়াব প্রকাশন
পৃষ্ঠা: 32
বাঁধাই: পেপার ব্যাক
সম্পূর্ণ বিবরণ →১৯৫৬ সালে পূর্ব-পাকিস্তানের আওয়ামী লীগ শাসনকালে চীফ মিনিস্টার ও শিক্ষামন্ত্রী জনাব আতাউর রহমান খান কর্তৃক নিযুক্ত শিক্ষা কমিশনের সুপারিশের বিশ্লেষণ করে আমি একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ রচনা করি। দৈনিক আজাদের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মদ আকরম খাঁন প্রবন্ধটি দৈনিক আজাদে প্রকাশ করেন এবং সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন উপসম্পাদকীয়তে প্রবন্ধটির সমর্থন ও প্রশংসা করেন। এরপর মাওলানা আকরম খান শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের ব্যাপারে ইসলামী চিন্তাবিদদের এক বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী, মাওলানা নূর মুহাম্মদ আযমী, মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রহীমসহ ১৫/২০ জন উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষাব্যবস্থার ইসলামীকরণের উদ্দেশ্যে সুপারিশমালা তৈরি করার জন্য মাওলানা মুহাম্মদ আকরম খানকে সভাপতি ও আমাকে সেক্রেটারি নির্বাচিত করে ১০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাকে শিক্ষা সংস্কার সম্পর্কে যথেষ্ট পড়াশুনা করতে হয়। সুপারিশমালা প্রণয়ন করতে গিয়ে কমিটিতে ব্যাপক আলাপ-আলোচনায় অনেক অভিজ্ঞ ব্যক্তির মতামত জানার সুযোগ হয়। শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আবুল আলা মওদূদীর কয়েকটি মূল্যবান প্রবন্ধ থেকে মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করেছি বলে মনে করি। আমার রচিত এ পুস্তিকাটির আলোচ্য বিষয় উপরিউক্ত অধ্যয়ন ও অভিজ্ঞতারই ফসল। বিষয়টি প্রবন্ধকার ১৯৬১ সালে ঢাকা সিদ্ধেশ্বরী হাই স্কুল ময়দানে মজলিসে তামীরে মিল্লাতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সপ্তাহব্যাপী সেমিনারে পেশ করা হয়। উক্ত সেমিনারে পরিবেশিত দারসে কুরআন ও প্রবন্ধসমূহ ‘চিন্তাধারা' শিরোনামে সংকলিত আকারে প্রকাশিত হয়। মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম ও জনাব মুহাম্মদ নূরুয্যামানের যৌথ সম্পাদনায় তা সংকলিত হয়। ইসলামী এডুকেশন সোসাইটি শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে সংকলিত এক গ্রন্থে এ প্রবন্ধটিও শামিল করেছে। ১৯৫৫ সাল থেকে ৯৪ সাল পর্যন্ত আমার যেসব লেখা দৈনিক, সাপ্তাহিক ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে এর মধ্যে যেসব প্রবন্ধ পুস্তিকাকারে প্রকাশিত হয়নি, সেসবকে গ্রন্থাকারে সংরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে ইসলামী আন্দোলনে আমার দীর্ঘকালের সাথী জনাব মুহাম্মদ নূরুয্যামান অনেক সময় ও শ্রম ব্যয় করে সংকলন আকারে প্রস্তুত করেন। আধুনিক প্রকাশনী ১৯৯৫ সালে তা প্রকাশ করে। সেখানেও শিক্ষা-সংক্রান্ত ঐ প্রবন্ধটি শামিল করা হয়। এবারই প্রথম ঐ প্রবন্ধটি পুস্তিকাকারে প্রকাশ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এখনও সন্তোষজনক কোন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। পাকিস্তান আমল থেকে এ পর্যন্ত বহু শিক্ষা-কমিশন গঠিত হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের সুপারিশমালা প্রণীত হয়েছে। বর্তমান চার দলীয় জোট সরকারও ড. মুহাম্মদ মুনীরুয্যামান মিঞাকে চেয়ারম্যান করে ‘জাতীয় শিক্ষা-কমিশন ২০০৩' সালের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রীর নিকট সুপারিশমালা হস্তান্তর করেছে। জোট সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক তাঁর বহু ভাষণে শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। আমি জাতীয় শিক্ষা-কমিশনের সুপারিশমালা পড়ে বিস্মিত হয়েছি যে, শিক্ষাব্যবস্থাতে ইসলামীকরণ তো বহু দূরের কথা, ‘নৈতিক শিক্ষা' শব্দটিও সুপারিশমালার কোথাও নেই। শিক্ষা-কমিশন মাদরাসা শিক্ষা সম্পর্কে যা সুপারিশ করেছে তা মাদরাসামহলের দাবি পূরণ করতে পারে। সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নের জন্য তাতে অনেক মূল্যবান সুপারিশ রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে সাধারণ শিক্ষার সাথে লেজুর হিসেবে ‘ধর্মীয় শিক্ষা' নামে গতানুগতিক ব্যবস্থার সুপারিশই করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলামী জীবন-দর্শনের ভিত্তিতে গড়ে তোলা এবং শিক্ষার বিষয়সমূহকে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষাদানের ব্যাপারে সামান্য ইঙ্গিতও নেই। এমনকি শিক্ষার্থীদেরকে নৈতিক দিক দিয়ে উন্নত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কোন সুপারিশই নেই। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার ব্যবস্থাপনায় যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং সর্বস্তরে যারা শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের চিন্তা-চেতনায় গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলামীকরণের বিষয়টিকে বিবেচনাযোগ্য করা ছাড়া সমনি¦ত একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা কিছুতেই সম্ভব হবে না। এ ব্যবস্থা করা না হলে সাধারণ শিক্ষা ধর্মনিরপেক্ষই থেকে যাবে, যার ফলে মাদরাসা শিক্ষাও আলাদাভাবে চালু থাকবে। এভাবে দেশে দু'জাতের শিক্ষিত লোক তৈরি হতে থাকলে জাতীয় ঐক্য কখনও সৃষ্টি হবে না। গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে একমুখী ও সমনি¦ত করতে হলে শিক্ষাকে ইসলামীকরণের বিকল্প নেই। এ মহান উদ্দেশ্যেই এ পুস্তিকাটি রচিত। আকারে ক্ষুদ্র হলেও এ বিষয়ে চিন্তার খোরাক এতে পাওয়া যাবে আশায়ই পুস্তিকাকারে প্রকাশ করা হল। যারা এ চিন্তাধারার সাথে একমত তারা যদি পুস্তিকাটিকে শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট পৌঁছাবার চেষ্টা করেন তাহলে এ বিষয়ে শিক্ষাঙ্গনে চর্চা বৃদ্ধি পেতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমার এ আশা পূরণ করুন।