ইসলাম ও দর্শন
প্রকাশনী: কামিয়াব প্রকাশন
পৃষ্ঠা: 16
বাঁধাই: পেপার ব্যাক
সম্পূর্ণ বিবরণ →সকালে লাল সূর্য ওঠে, সারাদিন আলো বিতরণ করে, সন্ধ্যায় আবার লাল হয়ে ডুবে যায়। রাতে আকাশে অগণিত তারকা মিটিমিটি জ্বলে। চাঁদের হাসি রাতের সৌন্দর্য বাড়ায়। আকাশে সাদা মেঘ ভাসে। এসব যেমন মানুষ দেখতে পায়, তেমন পশু-পাখিরাও দেখে; কিন্তু মানুষ পশু-পাখির মতো শুধু চোখেই দেখে না- মানুষের মন এক অদ্ভুত চেতনা। তাই মানবমনে প্রশ্ন জাগে- সূর্য কোথায় চলে যায়? আবার কোথা থেকে আসে? আকাশটা কতটুকু উঁচু? চাঁদ কেমন করে শূন্যে চলে? পশু-পাখির মন নেই বলে তারা চোখে যতটুকু দেখে এর বাইরে আর কিছু জানার জন্য প্রশ্ন উঁকি মারে না। শিশুর মনেও প্রশ্ন জাগে। কবির ভাষায়- “খোকা মাকে শুধায় ডেকে, এলেম আমি কোথা থেকে? সূর্য মামা কোথা থেকে পেল এত আলো?” মানুষ জানতে চায়- আমি কে? আমাকে কে সৃষ্টি করল? এ বিশাল পৃথিবী কি এমনিতেই তৈরি হয়ে গেছে? নাকি এর কোনো স্রষ্টা আছে? স্রষ্টা মানুষকে কেন বানাল? মানুষ মরে কেন? মরে কি শেষ হয়ে যায়? মরার পর কি আরও জীবন আছে, নাকি জীবন এখানেই শেষ? পরকাল কেমন? প্রশ্নের কোনো শেষ নেই। প্রশ্ন মানেই জানার পিপাসা। এ পিপাসা এমন তীব্র যে, না জানা পর্যন্ত মনে শান্তি নেই। অস্থির হয়ে জানার চেষ্টা করতে থাকে। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে সব মানুষের মনেই অগণিত প্রশ্ন জাগে। চিন্তাশক্তি সবার সমান নয়। যে যার সাধ্য অনুযায়ী প্রশ্নের কোনো না কোনো উত্তর যোগাড় করে নেয়। কোনো জবাব না পেলেও প্রশ্নের মুখ বন্ধ হয় না। সন্তোষজনক জবাব না পেলে মনের অস্থিরতা থেকেই যায়। তাই জবাব যোগাড় করতেই হয়। মনোজগতের প্রশ্নমালাই দর্শনের ভিত্তি। মনের প্রশ্নের জবাব তালাশ করাই দর্শন। চর্মচোখে যা দেখা যায় সেটুকু দেখেই মনের পিপাসা মেটে না। মন আরও গভীরে দেখতে চায়। এ দেখার চেষ্টার ফসলই দর্শনবিদ্যা। ইংরেজিতে এর নাম দেধফম্রমযদহ. দেহফম ও ওমযদধট শব্দ দুটো মিলে যদধফম্রমযদহ শব্দটি গঠিত হয়েছে। দেধফম মানে অনুরাগ বা আসক্তি।